ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব
শনিবার, ১৩ জুমাদাল আউওয়াল ১৪৪৮ AH
১৩ জুমাদাল আউওয়াল ১৪৪৮ AH
শরিক হোন
শনিবার, ১৩ জুমাদাল আউওয়াল ১৪৪৮ AH
১৩ জুমাদাল আউওয়াল ১৪৪৮ AH
শরিক হোন

“কতক ক্বারীকে কুরআন লানত করে” এই হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহিহ নয়

3,509

প্রশ্ন 224035

এমন কোন হাদিস আছে কি: “কতক ক্বারীকে কুরআন লানত করে”?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

উল্লেখিত হাদিসটির কোন ভিত্তি আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে জানি না। গাজালী (রহঃ) ‘ইহইয়াউ উলুমুদ্দীন’ গ্রন্থে এ হাদিসকে আনাস বিন মালিক (রাঃ) এর দিকে সম্বোন্ধিত করেছেন যে, তিনি বলেন: “কতক তেলাওয়াতকারীকে কুরআন লানত করে”।[ইইইয়াউ উলুমুদ্দীন (১/২৭৪) থেকে সমাপ্ত]

স্থায়ী কমিটির ফতোয়া সমগ্র-২ তে (৩/২১৩) এসেছে যে: “এটি মায়মুন বিন মিহরানের উক্তি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস নয়।

এর মর্ম হচ্ছে: এমন মুসলিমকে সতর্ক করা, যিনি কুরআন পড়েন; কিন্তু আমল করেন না। কারণ আল্লাহ্‌র বান্দাদের মধ্যে এমন কিছু বান্দা রয়েছে যারা কুরআনের নিষেধাজ্ঞাগুলো অবগত হয়; যেমন সুদের নিষেধাজ্ঞা; এরপর সুদী কারবার করে। কিংবা জুলুমের নিষেধাজ্ঞা; এরপর তারা জুলুম করে। কিংবা গীবত করার নিষেধাজ্ঞা; এরপর তারা গীবতে লিপ্ত হয়। এভাবে কুরআনে উদ্ধৃত আরও যে সব আদেশ ও নিষেধ রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও। আল্লাহ্‌ই তাওফিকদাতা।”[সমাপ্ত]

শাইখ বিন বায (রাঃ) কে “কতক ক্বারীকে কুরআন লানত করে” এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। কিভাবে কুরআন তার পাঠককে লানত করে এবং কেন?

তিনি জবাব দেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই হাদিসের সত্যতা জানি না। সুতরাং এর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।

আর যদি সহিহ সাব্যস্ত হয় তাহলে অর্থ হবে: কুরআনে এমন কিছু রয়েছে যা পাঠকারীর নিন্দা করা ও লানত করার দাবী করে। এ কারণে যে, সে কুরআন পড়ে কিন্তু কুরআনের নির্দেশগুলো লঙ্ঘন করে এবং নিষেধগুলোতে লিপ্ত হয়। আল্লাহ্‌র কিতাবে পড়ে; অথচ আল্লাহ্‌র কিতাবে এমন কিছু রয়েছে যা তাকে ও তার মত যারা রয়েছে তাদেরকে গালি দেয়ার দাবী করে। যেহেতু তারা আদেশগুলো লঙ্ঘন করে এবং নিষেধগুলোতে লিপ্ত হয়।

এটাই এর নিকটতম মর্ম; যদি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহিহ সাব্যস্ত হয়। কিন্তু আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এর সত্যতা জানি না।”[মাজমুউ ফাতাওয়া বিন বায (২৬/৬) থেকে সমাপ্ত]

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

দুর্বল হাদিসসমূহ

সূত্র: 

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

App StoreGoogle Play